
পুলিশের শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করতে পিটি ও প্যারেড জোরদার আহ্বান।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল, শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত পিটি-প্যারেড নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ব্যাপারে গত ৩ জুন সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটপ্রধানদের লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স শাখা। এই নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করতে সারাদেশে পুলিশের নিয়মিত শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের (পিটি-প্যারেড) কার্যক্রমে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কমান্ড সেন্টার থেকে তা মনিটর করবেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সদর দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, পিটি-প্যারেড চলাকালীন বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করলে পিটি-প্যারেডের অডিও-ভিডিও সংরক্ষণ করার পাশাপাশি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মনিটর করতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবচেয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এতে পুলিশের মনোবলে বড় ধরনের চিড় ধরে। ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথমে পুলিশকে কাজে ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ধাপে ধাপে পুলিশকে কাজে ফেরায়। নেতৃত্ব বদলের মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটিকে ঢেলে সাজানোর কাজও শুরু করে। যে প্রক্রিয়া বিএনপি সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। তবে, এখনও পুলিশের অনেক সদস্য ৫ আগস্টের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীলদের।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটেই নিয়মিত পিটি-প্যারেডে জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পিটি-প্যারেড মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৈনন্দিন প্রশিক্ষণ, শারীরিক ফিটনেস, শৃঙ্খলা এবং দলগত কাজের ভিত্তি। শারীরিক কসরত বা পিটি পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষম ও ফিট রাখে, অন্যদিকে প্যারেড তাদের মধ্যে ইউনিফর্ম পরিধানের সঠিকতা, কমান্ড মেনে চলার মানসিকতা ও ঐক্যের চর্চা নিশ্চিত করে।
সূত্র বলেছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর পুলিশের কোনো কোনে ইউনিটে নিয়মিত পিটি-প্যারেড না হওয়ার অভিযোগ পায় পুলিশ সদর দপ্তর। আবার কাজের ব্যস্ততায় পুলিশের অনেক সদস্য নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না বলে তথ্য রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এখন নিয়মিত পিটি-প্যারেড অনুষ্ঠানে নির্দেশনা দিয়েছে সব রেঞ্জ, মহানগর পুলিশসহ পুলিশের সব ইউনিটে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, ঢাকায় পুলিশের দৈনন্দিন ব্যস্ততা অন্য যে কোনো ইউনিটের চেয়ে বেশি, যে কারণে অনেক সদস্যই নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশ নিতে পারেন না। আমরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অধীনস্থদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর পিটি-প্যারেডে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের যে নির্দেশনা দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বডি ওর্ন ক্যামেরা হারানো বা কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে ব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যকে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে বডি ওর্ন ক্যামেরা হারানো বা কোনো ক্ষতিসাধন হলে দায়-দায়িত্ব ব্যবহারকারীর ওপর বর্তাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায়। সূত্র আমাদের সময়।
আপনার মতামত লিখুন :