
পুলিশের সঙ্গে হত্যা, প্রতারণা, ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত সহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি, কিন্তু পুলিশ এই প্রতারক মান্নানকে খুঁজে পায়না।
বিশেষ প্রতিনিধি:- অপরাধীরা নিজেকে রক্ষা করার জন্য সু কৌশলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে নিজেকে ক্ষমতা ধর ব্যাক্তি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন যায়গায় চাঁদাবাজি করে আসছে। কখনো কখনো নিজেকে সাংবাদিক ও সংগঠক পরিচয় দিয়ে প্রসাশনের কর্তাদের সঙ্গে ছবি ভাইরাল করে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে চিহ্নিত প্রতারক ও ধর্ষন মামলার সাজাপ্রাপ্ত সহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি প্রতারক মান্নান।
সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম সম্মানজনক পেশা হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সম্প্রতি এ পেশাকে ঘিরে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এলাকায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত নানা পেশার লোকজন নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে উপস্থাপন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে প্রেসকার্ড ও পরিচয়পত্র দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করছেন্ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ব্যবহার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অশিক্ষিত ও সার্টিফিকেটবিহীন কিছু ব্যক্তি ভুয়া আইডি কার্ড কোমরে ঝুলিয়ে, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সামনে ‘PRESS’ লিখে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের পত্রিকার কোনো নিবন্ধন নেই। কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে একটি চক্র প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মশালায় অংশ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
যেমন আঃ মান্নান ভূঁইয়া, পিতা আঃ হান্নান, সাং-পাঠানটুলী আইল পাড়া, থানা সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা নারায়ণগঞ্জ, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে একজন চিহ্নিত প্রতারক হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, যাত্রা বাড়ী থানায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, ধর্ষণ মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সহ প্রায় ১৪ টি মামলার পলাতক আসামি। আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই নিজস্ব কোনো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে ফেক ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করছেন।
সাম্প্রতিক একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় সেখানে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত জনাব সোহেল রানার সঙ্গে কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চিহ্নিত প্রতারক, হত্যা প্রতারণা,ধর্ষন মামলার সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার পলাতক আসামি প্রতারক মান্নানের ছবি। পুলিশের তথ্য মতে বাটপার মান্নানের বিরুদ্ধে প্রতারনা ও হত্যা মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে কিন্তু তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ঠিক অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে প্রতারক মান্নান পুলিশের সঙ্গে যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে নিজেদের সাংবাদিক ও সংগঠক হিসেবে তুলে ধরছেন।
অনেক ক্ষেত্রে এসব কথিত সাংবাদিক ও সংগঠকের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার ও প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও প্রশাসনের দাপট দেখিয়েও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন যায়গায় মাদক ও নারীঘটিত ঘটনাকে পুঁজি করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির ব্যক্তি সাংবাদিকতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বৈঠক করার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের একটি চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক থাকতে হবে যাতে করে কোন চিহ্নিত অপরাধী তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করতে না পারে।
আপনার মতামত লিখুন :