নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দখলের চেষ্টায় বসত বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপি


Staff Reporter প্রকাশের সময় : মার্চ ২৩, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন /
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দখলের চেষ্টায় বসত বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দখলের চেষ্টায় বসত বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঈদের আগের দিন একটি বসত বাড়ি ভেঙ্গে দখলের চেষ্টায় তান্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তারা আধাপাকা বসত বাড়ির একাধীক রুমের দেয়াল ও জানালা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। আসবাবপত্র ভাংচুর করে ঘরের বাহিরে ফেলে দেয়। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

এসময় বাধা দিতে গিলে সন্ত্রাসীদের হামলায় একই পরিবারের শিশুসহ ৫জন আহত হয়। আহতরা হলেন- কাশেম মিয়া (৬৯) তার স্ত্রী ছাবেহা বেগম (৬৪) ছেলে ফারুক (৩৭) তার স্ত্রী সায়লা আক্তার (২৩) ও তাদের শিশু পুত্র আরাফাত (৩)।

তাদের চিৎকারের আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলেও ভয়ে কেউ সন্ত্রাসীদের সামনে দাড়ায়নি। ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া দরগা বাড়ী মসজিদ এলাকায় কাশেম মিয়ার বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
এদিকে হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে এ ঘটনায় জরুরী নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন করেও তাৎক্ষনিক পুলিশের সহযোগীতা পায়নি।

পরে আড়াই ঘন্টাপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সন্ত্রাসীদের কাউকে পায়নি। উল্টো পুলিশ ভুক্তভোগীদের ধমক দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এঘটনায় ক্ষতিগ্রহস্থ বাড়ির গৃহিনী রোজিনা বেগম বাদী হয়ে আমিন (৪১) তার ছোট রুবেল (৪০), মাসুদ (৩৯), আনোয়ার হোসেন আনু (৪৫) তার স্ত্রী জিয়াসমিন (৪০), আনিসুর রহমান (৩৮), মিতু (৩৬) সহ ৪০জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ মামলায় পুলিশ ৩দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে জেলা বিএনপি।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

এ সময় মামুন মাহমুদ বলেন, বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত হয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে ভাঙচুর হওয়া ভবনটি দ্রুত মেরামত করে বসবাস করতে পারে সে ব্যাপারে জেলা পরিষদের ফান্ড থেকে একটি অনুদান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা অপরাধ করেছে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো নিউজ করার আগে ভালো করে তদন্ত করে দেখতে মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ করেন মামুন মাহমুদ।
তিনি আরও বলেন, বাড়ি ভাঙচুর করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় যদি পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হবে।

জানা গেছে, ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু ২০১৬ সালে ওই জমিতে ভাগ আছে বলে দাবি করেন তার জেঠাতো ভাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। জমির বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিরোধের জের ধরে গত ২০ মার্চ ভোরে ফারুক হোসেনের জেঠাত ভাই রুবেল, আনিসসহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাটি, লাঠিসোটা, রড, হাতুড়ি দিয়ে তাদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় পানির মোটর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
তখন বাধা দিতে আসলে কাশেম মিয়া ও তার স্ত্রী, ছেলে ছেলের বৌ ও শিশু পুত্রকে মারধর করে। তাদের চিৎকারের আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলেও ভয়ে কেউ সন্ত্রাসীদের সামনে দাড়ায়নি।

মামলার বাদী কাশেম মিয়ার মেয়ে রোজিনা জানান, সন্ত্রাসীরা আমাদের বসত বাড়ি এমন ভাবে ভেঙ্গেছে ঘরের দরজা জানালা কিছুই রাখেনি। দেয়াল ও আসবাবপত্র ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। পরিবার নিয়ে থাকার মত পরিবেশ নেই। তখন জরুরী নাম্বারে ফোন করেও তাৎক্ষনিক পুলিশের সহযোগীতা পায়নি। উল্টো পুলিশ ধমক দিয়েছে। পরে আড়াই ঘন্টাপর পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের কাউকে পায়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।