
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে দুগ্রুপের সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে শিমরাইল মোড় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা ফুটপাত দোকান উচ্ছেদ করার সময় দখলদার ও চাঁদাবাজদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, জনচলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুপাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে অন্তত ৫ শতাধিক ফুটপাত দোকান গড়ে উঠে। এসব দোকানপাট থেকে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা ভাড়া ও চাঁদা আদায় করে আসছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা এর নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ এবং হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহŸায়ক মনিরুল ইসলাম রবির ছেলে যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিনাজ, রতন, রানা ও তামিমসহ ১০-১৫ জনের একটি দল মহড়া দেয়।
এ সময় প্রতিপক্ষ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদিরের নেতৃত্বে আওয়ামী পন্থি সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির যুগ্নসাধারণ সম্পাদক রাসেল ভান্ডারী, ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম জিয়াদ ও রবিনসহ ১৫-১৬ জন মিলে ওদের উপর হামলা চালায়। তারা যুবদলের তামিমকে বেধরক মারপিট করে। এনিয়ে চরম হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্ঠি হয়। তখন পুলিশ দুপক্ষের লোকজনের উপর লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘর্ষের কারণ জানতে চাইলে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক রিপন সরকার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এসব ফুটপাত থেকে একপক্ষ ভাড়া ও চাঁদা আদায় করে আসছিল। উচ্ছেদের পর আরেকপক্ষ খালি জায়গা দখল করে ফের দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করার মিশনে নামেন। একসঙ্গে আরো দুটি গ্রæপ ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এনিয়েই মূলত এ ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মারামারিতে লিপ্ত হওয়ায় দুগ্রæপের নেতারা কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা বলেন. সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলা স্থপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কেউ এ জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা গড়ে তুললে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সড়র ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ মজুমদার, সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের গাজিপুর জিরিয়নের পুলিশ সুপার সিমা রানী সরকার, শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই জুলহাস উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
আপনার মতামত লিখুন :