
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আবারও নতুন রেকর্ড গড়লেন। ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম দশ দিনেই দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে, তা গত পাঁচ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রবাসীরা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের দেওয়া ২.৫% প্রণোদনার পাশাপাশি প্রবাসীদের দেশপ্রেম এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সচেতনতা এই অর্জনের নেপথ্যে কাজ করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ এসেছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ‘স্মার্ট আইডি কার্ড’ এবং বিশেষ বীমা সুবিধা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রবাসীদের পরিবার বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাবে। এছাড়াও, বিমান বন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। মালয়েশিয়া ও ওমানসহ কিছু দেশে ভিসার কড়াকড়ি এবং আকামা জটিলতা নিয়ে প্রবাসীরা কিছুটা চিন্তিত। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে বিদেশে গেলে প্রবাসীরা যেমন ভালো বেতন পাবেন, তেমনি দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।
রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের অনলাইন ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :