বন্দরে শ্রমিক হত্যা: মামলা হওয়ার আগেই জনতার চাপের মুখে এসআই ক্লোজড।


staf reporter 2 প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন /
বন্দরে শ্রমিক হত্যা: মামলা হওয়ার আগেই জনতার চাপের মুখে এসআই ক্লোজড।

বন্দরে শ্রমিক হত্যা: মামলা হওয়ার আগেই জনতার চাপের মুখে এসআই ক্লোজড।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হোসিয়ারি শ্রমিক মো. জোবায়ের (১৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার আগেই এবং প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে প্রথমে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার ও পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

সুত্র মতে,গত ৩ জুন রাতে রেললাইন কল্যান্দী ভাঙ্গাব্রীজের নিচে কর্মস্থল থেকে আসার পথে ছিনতাইকারীদের বাধা দেওয়ায় হোসিয়ারী শ্রমিক জোবায়েরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মানিক ও তার সহযোগী ‘নাক্কি’ সজিব। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জোবায়ের মারা যান।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা থানায় গিয়ে পরিচিত এসআই মাসুদ রানাকে ফোন দিলে তিনি তাদের বসার ব্যবস্থা করেন এবং বিস্তারিত শোনেন। পরে এক সাবেক কাউন্সিলর মামলার জন্য সুপারিশ করলে এসআই মাসুদ জানান, সরাসরি মামলা নেওয়ার আইনি এখতিয়ার কোনো উপ-পরিদর্শকের নেই। তিনি তার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার) সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

 

৭ জুন সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে স্বজনরা বন্দরে ফিরলে বিক্ষুব্ধ জনতা থানায় এসে বিক্ষোভ করে প্রচার চালায় যে, এসআই মাসুদ মামলা নেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। উত্তেজিত জনরোষ থেকে বাঁচতে থানা প্রশাসন কোনো তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসআই মাসুদকে বরখাস্ত করে।

 

গত ৬ এপ্রিল বন্দর থানায় যোগদানের পর মাত্র দুই মাসে ৮টি ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৯ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করে প্রশংসিত হন এসআই মাসুদ। এমন একজন কর্মঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আকস্মিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মাসুদ রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে টাকা দাবি বা অবহেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কোনো লিখিত অভিযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি। বরং হত্যা কান্ডে অভিযুক্ত প্রধান আসামী মানিককে এই ঘটনার দুইদিন আগে আরেকটি মামলায় আমি সাহসিকতার সহিত গ্রেফতার করেছি। যার কারনে ওসি স্যার হত্যাকান্ডের মুল অভিযুক্তকে শ্যোন এরেষ্ট দেখাতে পেরেছে। একটি কুচক্রী মহল আমার সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে এই নোংরা ষড়যন্ত্র করেছে।

এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।