
আমলাপাড়া আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও সদস্য সচিবের অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অত্র স্কুলের অভিভাবক নির্বাচনের প্রার্থী মোঃ শফিউদ্দিন ও ফাহমিদা আক্তার উনারা লিখিত অভিযোগে বলেন।
📄 সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য (চূড়ান্ত রূপ)
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম,
উপস্থিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।
আজ অত্যন্ত দুঃখ এবং ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে আজ আমি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমান সদস্য সচিব (প্রধান শিক্ষক) এবং স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল যে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার জাল বুনেছেন, তা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি [১]।
১. ১ ও ২ নং ক্রমিকে চূড়ান্ত জালিয়াতি (ভোটার তালিকা প্রণয়নই করা হয়নি):
ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের ১ ও ২ নং ক্রমিকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যথাক্রমে খসড়া ভোটার তালিকা এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সদস্য সচিব কোনো রূপ খসড়া তালিকা কিংবা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন বা প্রকাশই করেননি! বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে বা অন্য কোথাও কোনো তালিকা টাঙানো হয়নি। অর্থাৎ, ভোটার কারা—তা অভিভাবকরা কেউই জানেন না। ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে নির্বাচন করা সরকারি বিধিমালা ও নির্দেশিকার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন [১, ২]।
২. তথ্য গোপন ও ফোন না ধরে এড়িয়ে চলা:
মনোনয়নপত্র ক্রয়ের পূর্ব মুহূর্তে যখন আমরা অভিভাবকরা এই ভোটার তালিকা সম্পর্কে জানতে এবং নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে সদস্য সচিবের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ফোনে অনবরত যোগাযোগ করি, তখন তিনি আমাদের কোনো তথ্য দেননি। তথ্য দেওয়া তো দূরের কথা, তিনি আমাদের কোনো ফোনই ধরেননি [১]! সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ফোন না ধরে তিনি তথ্য গোপন করেছেন এবং সাধারণ অভিভাবকদের সাথে চরম অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন। ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে এবং কোনো তথ্য না দিয়ে কীভাবে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা নেওয়া হয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
৩. মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা ও কতিপয় মহলের প্রভাব:
যোগ্য ও সাধারণ অভিভাবকরা যখন মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান, তখন স্থানীয় এক শীর্ষস্থানীয় নেতার অনুসারী ও বহিরাগতরা বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করে।
৪. একই পরিবার থেকে আমাদের প্রার্থিতা এবং নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা:
আমি শফিউদ্দিন এবং আমার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার তানিয়া—আমরা দুজনেই এই বিদ্যালয়ের নিয়মিত অভিভাবক। একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধা নেই। অথচ এই বৈধ বিষয়টিকে অজুহাত বানিয়ে সদস্য সচিব এবং তার পেছনের মহলটি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বানচাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সাথে তারা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে রহস্যজনক বিলম্ব করছে এবং এর পেছনে ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের কাল্পনিক অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে, যা মূলত নির্বাচনকে ভেস্তে দেওয়ার একটি নীল নকশা।
৫. সদস্য সচিবের চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা ও অতিরিক্ত ৪টি ফরমের রহস্য:
সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ঘটেছে মনোনয়নপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে। মনোনয়নপত্র ক্রয় এবং জমা দানের সময় সশরীরে মাত্র ৪ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সদস্য সচিব ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুপস্থিত আরও ৪ জনের নামে অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র বিক্রির ভুয়া রেকর্ড তৈরি করেছেন। মোট ৮টি মনোনয়নপত্র বিক্রি দেখানো হলেও বাকি ৪ জন মূলত সদস্য সচিবের সম্পূর্ণ নিজস্ব ও মনোনীত পকেট প্রার্থী। সশরীরে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে তাদের নামে ফরম ইস্যু হলো?
আমাদের দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সদস্য সচিবের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। আজ আমরা আপনাদের মাধ্যমে administrations বা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমরা অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিপরায়ণ সদস্য সচিবকে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে অপসারণ করে একজন যোগ্য, নিরপেক্ষ ও সৎ সরকারি কর্মকর্তাকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি,
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আপনার মতামত লিখুন :